Posts

অধ্যবসায়

Image
লেখক - মনসুর আলি          বিনোদ কম্পিউটার চালাতে পারে না। খুব আফসোস ওর। ক্লাস নাইনে পড়ে। বাবার পয়সা নেই। তাই কম্পিউটার কোর্সে ভর্তি হতে পারে না।      বিনোদ একটা বুদ্ধি বার করল। সাজিদদের কম্পিউটার আছে। সাজিদ চালায়, সাজিদের বোন চালায়। ও বুদ্ধি করে সাজিদের কাছে গেল। সাজিদ ওরই ক্লাসে পড়ে।      গিয়ে বলল, “সাজিদ, আমার খুব ইচ্ছে কম্পিউটার শিখব।”     সাজিদ বলল, “কোর্স কর।”     বিনোদ বলল, “অত টাকা নেই। কী করে করব। তুই আমাকে শেখাবি?”     সাজিদ রাজি হয়ে গেল। সেই থেকে রোজ বিকালে আধঘন্টা করে সাজিদের কাছে বিনোদ কম্পিউটার শেখে সাজিদের বাড়িতে গিয়ে। টাইপ প্র‍্যাক্টিস করে।     এইভাবে শিখতে-শিখতে তিন মাস কাটল। বিনোদ এখন Word, Excel, PowerPoint, Tally কতকিছু শিখে নিয়েছে। এখন ও কম্পিউটারে দারুণ এক্সপার্ট।      গতকাল ওর বাবা ওকে বললেন, “বিনোদ, কিছুক্ষণ পর একটা সারপ্রাইজ পাবি।”     বিনোদ বলল, “কী বাবা, কেক কিনে দেবে?”     ওর বাবা কিছু বলতে যাবেন অমনি বাড়ির পিছনে ট্যাক্সির হর্ন বাজ...

ধৈর্য ছাড়া অন্য রাস্তা নেই

Image
লেখক - মনসুর আলি      বিপুল একটা ব্যবসা করবে। বিপুল এমনিতে একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে। মাস গেলে যা পায় খেয়েপরে হাতে কিছু থেকেও যায়। এখন ও উতলা হয়ে পড়েছে, আরও ইনকাম চাই, একটা ছোটমতো ব্যবসা করতে হবে। ভালো কথা। কিন্তু ব্যবসা করতে হলে এই মুহূর্তে মূলধনও তো কিছুটা লাগবে।      কে দেবে টাকা? হাতে তো ততটা টাকা নেই। বউয়ের কাছে হাত পাতল। অনামিকা বলল, “আমার কাছে মেরেকেটে পাঁচটা হাজার টাকা আছে। সবটা যদি দিয়ে দেই তো আমার হাত একদম ফাঁকা হয়ে যাবে। আর পাঁচ হাজার টাকায় তোমার ওই ইমিটেশনের ব্যবসা হবে না। তুমি তো বলেছ কম করে পঁচিশ হাজার টাকা তোমার লাগবে।”     বিপুল “ধুত্তোর” বলে নিজের হাঁটুতে একটা হালকা কিল মেরে মাথা নিচু করে।      অনামিকা বলল, “আর ছয়টা মাস ওয়েট করো না। তুমি তো বলেছ ছয় মাস গেলেই ও টাকা তোমার জোগাড় হয়ে যাবে। মাইনে থেকে ছয় মাস কিছু কিছু করে রাখলেই হল। ধৈর্য ধরো গো ধৈর্য ধরো। তুমিই তো আমাকে শিখিয়েছ ধৈর্য তেতো, কিন্তু এর ফল মিষ্টি। তুমি তাহলে এমন করছ কেন। একটা ব্যবসা ভালো করে ফাঁদতে পারলে তোমার চিন্তা থাকবে না। বাড়িতে মাল থাকবে। লো...

ঝগড়ার অবসান

Image
লেখক - মনসুর আলি      সাগ্নিকের বাড়িতে ভীষণ ঝগড়া। বউয়ের সাথে। এটা ওটা সেটা নিয়ে। সকালে ঝগড়া, বিকালে ঝগড়া, সন্ধেয় ঝগড়া, রাতে ঝগড়া। কখন ঝগড়া নেই।     ভালো মুশকিল হয়েছে ওর বিয়ে করে। বিয়ের আগে দিব্যি ছিল। বিয়ের পরই যত ঝামেলা সৃষ্টি।      একটা বিষয় সাগ্নিক জানে। কত মনীষী বলে গেছেন। ইউটিউবে কত ভিডিও দেখেছে সাগ্নিক ওই বিষয়ে।      বিষয়টা হচ্ছে— চুপ থাকলে জীবনের ষাট শতাংশের বেশি সমস্যার সমাধান আপনা থেকেই হয়ে যায়।     আজ থেকে সাগ্নিক স্থির করল— ও স্ত্রীকে আর কিছু জিজ্ঞাসা করবে না, সবসময় চুপ থাকবে। প্রয়োজন ছাড়া কথা বলবে না।      যেমন চিন্তা তেমন কাজ।     এখন সাগ্নিক দেখছে ওর স্ত্রী ওর কাছে এসে মন খুলে কত মনের কথা বলছে। সাগ্নিকের মতামত জানতে চাইছে। সাগ্নিক অল্প অল্প উত্তর দিচ্ছে।     সাগ্নিক এভাবে এক সপ্তাহ চলল। সত্যিই ওর সংসারে আর ঝগড়া তেমন হচ্ছে না।      সাগ্নিক বুঝে গেল— নীরবতাই পারে শান্তি আনয়ন করতে।     সাগ্নিকের সংসারে আর আগের মতো ঝগড়া হয় না। বার্তা - নীরবতা শান্তি আনে।...

খাঁটি প্রেমের আখ্যান, পর্ব - ৩

Image
  লেখক - মনসুর আলি      ছেলেটাকে নিয়ে মিমি সোজা চলে গেল কিছুটা দূরের একটা মেন্টাল রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে। সেটার নাম মনরহস্য।      সেখানে গিয়ে সবকিছু জানাল রিসেপশনিস্টকে। রিসেপশনিস্ট মেয়েটি বলল, “আপনি কী বলছেন, ওকে ভর্তি নেব না আমরা? আমরা তো ওইজন্যই বসে আছি। ওকে ভর্তি করিয়ে দিন এখানে। আমাদের এই প্রতিষ্ঠান ট্রাস্টি চালিত। এখানে খরচ কিছু নেই। ওর যেহেতু অভিভাবকের কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না সেইহেতু আপনিই ওর অভিভাবকের ভূমিকাটা পালন করবেন। মাঝেসাঝে এই ধরুন সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন এসে ওর খোঁজটা নিয়ে যাবেন। কী, পারবেন না?”     ছেলেটার নাম জানা গেল না। শুধু ছেলেটার মুখ দেখে মিমির কেমন যেন একটা মায়া হতে লাগল। ও চোখের কোণটা ওড়নার প্রান্ত দিয়ে একটু মুছে নিয়ে বলল, “পারব। নিশ্চয়ই পারব। আমি মাঝেমধ্যে এসে ওকে দেখে যাব।”      মিমি ওকে রেখে বাড়ি চলে এল। মামাবাড়ি আর সেদিন যাওয়া হল না। মামি ফোন করল, “কীরে এলি না যে?”     মামিকে সব বলল মিমি। মামি শুনে বলল, “নাঃ। পুণ্যের কাজ করলি রে তুই একটা। ছেলেটা যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে কতই না ভালো হবে...

প্রকৃতি

Image
লেখক - মনসুর আলি      অবিনাশবাবু ইতিহাসের শিক্ষক। হাই স্কুলে পড়ান। ট্রেনে করে স্কুল থেকে ফিরছেন। ধপধপি স্টেশন এল। অবিনাশবাবু প্ল্যাটফর্মের পানে চাইলেন। আহা! কী ছায়াময় নির্জন প্ল্যাটফর্ম। অবিনাশবাবু নামবেন আর একটা স্টেশন পর।     কিন্তু এই প্ল্যাটফর্মটার ছবি অবিনাশবাবুকে খুব জড়িয়ে ফেলল এক আজব মায়ার বাঁধনে। নেমে কিছুক্ষণ বসে সময় কাটিয়ে গেলে হয় না?     মুহূর্তে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। বাড়ি যাবেন নাহয় নির্দিষ্ট সময়ের আধ বা এক ঘন্টা পর। নেমে পড়লেন অবিনাশবাবু।      গিয়ে বসলেন সিমেন্টের সিটে। ট্রেন সামন দিয়ে চলে গেল। তাকিয়ে দেখলেন, একঝাঁক বক নীলসাদা আকাশের বুক চিরে উড়ে গেল। তারপর ঘটিগরমওলা টিংটিং করে ঘণ্টি বাজিয়ে গেল। তিনি ডাকলেন তাকে। দশটাকার ঘটিগরম কিনে চিবিয়ে চিবিয়ে খেতে লাগলেন।      সামনের বনভূমি যেটা রেললাইনের ওপারে, সেটা কী নিবিড় সবুজ! কত সুন্দর লাগছে।     আজ বউ হয়ত বকাঝকা করবে। বলবে, “বুড়ো কোথাকার। স্টেশনে বসে প্রকৃতি দেখা হচ্ছে? এদিকে বাড়ি ফিরতে লেট হবে জানো না?”     বউ যা বলে বলুক। দেরি হবে হোক। আজ...

খাঁটি প্রেমের আখ্যান, পর্ব - ২

Image
  লেখক - মনসুর আলি      জটলার কাছে গিয়ে মিমি একজন লোককে বলল, “দাদা, এখানে এত লোক কেন? কী হয়েছে?”     লোকটি জবাব দিল, “ওই যে ছেলেটা দেখছেন ও একটা পাগল। একটা বাইক এসে ওর পায়ের ওপর দিয়ে চলে গেছে। কেউ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে না। ঘেন্নায় ওর কাছে যাচ্ছে না।”     ছেলেটা শুধু “ও মাগো, বাবা গো” করে চিৎকার করে পা-টা ধরে কেঁদে যাচ্ছে।      মিমি শুধু মুখ দিয়ে উচ্চারণ করল, “উফ! কী আশ্চর্য! এত লোক, কেউ এগিয়ে আসছে না? মানুষ এখানে আছে কেউ? আমার তো মনে হচ্ছে না।”     তারপর সামনের লোকগুলোকে ঠেলে ভিড়ের মাঝখানে ঢোকার চেষ্টা করতে লাগল মিমি। মুখে শুধু বলতে লাগল, “এই যে সরুন তো দেখি। সরুন সরুন। চলুন দেখি। সাইড দিন। এত মানুষ। কেউ আসছে না। কী আছে ঘেন্নার। ছেলেটার গায়ে ময়লা পোশাক। এছাড়া আর কী আছে ওর গায়ে। কেউ এগিয়ে যাচ্ছে না।”     তারপর রিকশাওয়ালাকে ডাকল, “কাকা, এসো তো। ধরো ছেলেটাকে। রিকশায় তুলি। হাসপাতাল নিয়ে যেতে হবে।”     মিমি রিকশাওয়ালাকে বলল, “রিকশার চেন কেটে গেছে। চলবে না। চালাতে হবে না। টেনে নিয়ে চলো কাকা।”     রি...

শব্দ

Image
  লেখক - মনসুর আলি      রাত ১২টা। সাহিনের ঘুম আসছে না। আব্বা, মা পাশেই শুয়ে আছে। তবুও ভয় হচ্ছে। জানলার ওপাশে খড়খড় খড়খড় শব্দ। তাহলে কি চোর এসেছে?     শীতকাল। এসময় সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে। চোরেরা সেই সুযোগে চুরি করতে বার হয়।      উঠোনে আব্বার সাইকেল রয়েছে। পাঁচিল দেওয়া বাড়ি ছ' বছরের ছেলে সাহিনদের। চোর কি তাহলে পাঁচিল টপকে ঢুকল!     আবার খড়খড় খড়খড় শব্দ। চোর কি তাহলে জানলায় ওরকম আওয়াজ করছে। বাড়ির লোকেরা জেগে আছে কি না দেখছে?      সাহিনের খুব ভয় করতে শুরু করে। ও আব্বাকে আর মাকে ডাকে।     “ও আব্বা, ও মা, ওঠো তাড়াতাড়ি। চোর এসছে। জানলার বাইরে খড়খড় খড়খড় শব্দ করছে।”     সাহিনের আব্বা রহিমবাবু খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতে চেষ্টা করলেন আওয়াজটা। শুনে ফিসফিস করে সাহিনের মা রফিজাকে বললেন, “হ্যাঁ তাই তো। ভালো করে শোনো...”     রফিজা কান পেতে ভালো করে শুনলেন। তারপর ওপরের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, “ওই দ্যাখো চোর ওপরে।”     রহিমবাবু আর সাহিন ওপরে তাকিয়ে দেখল একটা বড়সড় টিকটিকি জানলার পাশের আলমারির ওপর থা...