Posts

লোকে কী ভাববে

Image
    মতিন ইদানীং একটা ভীষণ সমস্যায় ভুগছে। যে কাজই করতে চাইছে, আগে থেকে একটা চিন্তা মাথায় চলে আসছে— লোকে কী ভাববে। ওর বাবা ওকে বলে বলে হয়রান যে, লোকে কিছুই ভাবে না। তা সত্ত্বেও সে এই চিন্তা মাথা থেকে সরাতে পারছে না— লোকে কী ভাববে।     এবার ওর বাবা এক মনোবিদের কাছে ওকে নিয়ে গেলেন। সাইকিয়াট্রিস্ট আর কেউ না। পাশের বাড়িত অনিক চক্রবর্তী। সে সাইকোলজি নিয়ে পড়ে এখন একটা রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে চাকরিরত।     ঘরের মানুষের কথায় কাজ হল না। এবার দেখা যাক বাইরের লোকের কথায় কাজ হয় কি না। মানুষ যাকে খুব কাছ থেকে পায় তাকে গুরুত্ব দেয় না।     অনিকের বাড়ি যেতে অনিকের মা চা দিয়ে মতিন আর ওর বাবাকে আপ্যায়ন করলেন। এবার অনিকের স্টাডিরুমে বসে চিকিৎসা শুরু হল। প্রথমেই অনিক বলল, “আমি একটা জিনিসই বলব। সেটা যদি মতিন তুমি বিশ্বাস করতে পারো তাহলে তোমার রোগ নিমেষে সেরে যাব। সেটা হল, লোকে ভাবে। অবশ্যই ভাবে। তবে এক বা দু সেকেন্ডের জন্য। আর তুমি ভাবো এক বা দু ঘন্টার জন্য অথবা কখনও কখনও এক বা দু দিন, আবার কখনও এক বা দু সপ্তাহ বা এক বা কয়েক বছরের জন্য।      মনে করো তুমি ম...

কিছু কথা, কিছু ব্যথা

Image
    মলয় আজকে অফিসে যাবার জন্য অটোতে উঠল। বাড়ি থেকে সাত কিলোমিটার রেলস্টেশন। অটোয় উঠে চুপটি করে বসল। কিছুটা গিয়ে প্যাসেঞ্জার নেবে বলে অটো থামল।     সবুজ চুড়িদার পরে একটি মেয়ে উঠল।      মলয়ের টনক নড়ে গেল। আরে, এ যে পাপিয়া! এখনও সেইরকম তন্বী, সুন্দরী হয়ে আছে। কে বলবে একত্রিশ বছর বয়স হয়ে গেছে।      মলয়কে দেখে হাসল পাপিয়া। মলয় বলল, “কেমন আছ?”     পাপিয়া বলল, “ভালো থাকি কী করে? তোমার যেদিন বিয়ে ঠিক হয়ে গেল সেই দিন থেকে আমার কপালে আগুন ধরে গেল। যাকগে, সে তো তুমি ইচ্ছে করে করোনি। তোমার বাবাই এর পেছনে ছিলেন। আমরা তোমাদের মতো তো উচ্চবিত্ত ঘরের লোক নই, তাই আমি মেনে নিয়েছিলাম। আমি কিন্তু ইচ্ছে করলে তোমার বাবার সব চিন্তাভাবনা ওলটপালট করে দিতে পারতাম। শুধু একটা ভালো মেয়ের কথা চিন্তা করে তোমাদের পথ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম। ওই অপরূপাই একদিন আমার প্রাণ বাঁচিয়েছিল। তাই আমি ভেবেছিলাম ওকে এতদিন পর একটা গিফট দেবার সুযোগ এসেছে। আর সেই গিফটটা ছিলে তুমি। আমি তোমাকে ওর হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছিলাম।”     “তোমার স্বামী কী করে?” মলয় বলে।...

অমনোযোগী ছাত্র

Image
    কমল মাস্টারমশাইকে বলল, “আমি পড়ায় মন বসাতে পারছি না। পড়ার সময় রাজ্যের চিন্তা মাথায় চলে আসছে। রেজাল্ট ভালো করতে পারব না বোধহয়... ”     ওর মা পাশে কিচেনে রান্না করছিল। বলল, “হ্যাঁরে সবে ক্লাস সেভেন। এর মধ্যে এরকম মানসিক সমস্যা দেখা হলে পরবর্তীকালে লেখাপড়ায় এগোবি কী করে? স্যার আপনি বুঝুন কী করবেন। ওকে যে ডাক্তার দেখাতে হবে মনে হয়।”     মাস্টারমশাই বললেন, “বউদি, আপনার কোনও চিন্তা নেই। ডাক্তারের কাছে যেতে লাগবে না। আমি ওকে বুঝিয়ে দিচ্ছি।” তারপর কমলের দিকে চেয়ে মাস্টারমশাই বললেন, “আচ্ছা কমল, তুই আমায় শুধু বল কীসের কীসের চিন্তা এসে তোর মাথায় ঢোকে তুই যখন পড়তে বসিস?”      কমল বলল, “স্কুলে কী কী হয়েছে, খেলার মাঠে বন্ধুদের সাথে কী হয়েছে, কে কী বলেছে, কেন বলেছে এইসব নানান জিনিস স্যার।”     মাস্টারমশাই বললেন, “আমি তোকে একটা ফর্মুলা বলে দেব। সেই একটা ফর্মুলাতেই তোর এই রোগ একেবারে দূর হয়ে যাবে। শুনবি?”     কমল বলল, “শুনব না মানে স্যার? আপনি আগে বলুন। খুব শুনব। আমার যা সমস্যা হচ্ছে ইদানীং!”     মাস্টারমশাই বললেন, “এখন থেকে ত...

ব্যথা নিষ্কাশন

Image
    আজ আমার মনটা বিশেষ কারণে ভারাক্রান্ত। কী কারণে ভারাক্রান্ত তা এখানে উল্লেখ করতে চাই না। যদি আউটলাইন দিতে বলেন, তাহলে বলতে পারি একান্ত ব্যক্তিগত। সংসারী মানুষের মন এক এক সময় এক এক রকম হয়ে যায়, কেননা সংসারে আছে নানান ধরনের, নানান তীব্রতার ঘাত ও প্রতিঘাত। আমি কেবল এটুকুই বলতে পারি আমার মনের অবস্থা ভালো না।     মন খারাপ থাকলে কি কিছু ভালো লাগে। বই পড়া, গান শোনা, গল্প করা, খাবার খাওয়া— কিচ্ছু ভালো লাগে না। আমি যেহেতু শিক্ষিত মানুষ, তাই আমি সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকাটা পছন্দ করি না। ভাবতে লাগলাম মনের এ তীব্র বেদনা কীভাবে মন থেকে বার করে দিয়ে একটু হালকা হওয়া যায়।     আব্বা বেঁচে থাকতে আমায় প্রায়শই বলতেন, ‘যখন মন খারাপ থাকবে, মনের সব কথা একটা সাদা কাগজে লিখবি মনি। তারপর কাগজটা ছিঁড়ে ফেলে দিবি।’ ছিঁড়ে ফেলতে বলেছিলেন এই কারণে পাছে অন্য লোকেরা আমার এই কথাগুলো জেনে যায় এবং আমার প্রাইভেসি নষ্ট হয়ে পড়ে তাই।      আব্বার এই কথাটা মনে পড়তেই একখানা মোটা খাতা বার করে মনের সব দুঃখের কথা যা যা এই মুহূর্তে মনে আসছে এবং যেগুলোর দরুন আমার মনের শান্তি ব্যাহত সেগুলো সুন...

মনসংযোগ

Image
     রিমি বাবাকে বলল, ‘বাবা আমি পড়ায় মনসংযোগ করতে পারছি না। আমাকে এই প্রবলেম সলভ করে দাও।’      বাবা একটু ভেবে নিয়ে বললেন, ‘তুই রোজ পড়তে বসার আগে তিন মিনিট করে মেডিটেশন করে নিবি। এই সময় কোনো একটি নির্দিষ্ট দৃশ্যের কথা ভাববি। শুধু সেইটার কথা ভাববি। আর কিছু না। একেবারে স্থির হয়ে বসে।’      পরেরদিন রিমি পড়তে বসার আগে তাই করল। ঠিক বাবা যেমন যেমন বলে দিয়েছিলেন। ও একটা গোলাপ ফুলের দৃশ্য মনে-মনে চিন্তা করল কয়েক মিনিট। দেখল এইভাবে মেডিটেশন করে ওর কনসেনট্রেশান ভালো তৈরি হল। পরেরদিন একই কাজ। আবার কনসেনট্রেশান তৈরি হল।      বাবাকে বলল, ‘বাবা মেডিটেশন সত্যিই ভালো ফল দেয়।’      বাবা মুচকি হাসলেন।  বার্তা - মেডিটেশন মনসংযোগ বাড়ায়। Image Source : Pixabay আরও পড়ুন: গল্প: একমাত্র নীতি 👇 https://www.golpochura.com/2025/10/blog-post_64.html?m=1 গল্প: সবচেয়ে মূল্যবান 👇 https://www.golpochura.com/2025/10/blog-post_17.html?m=1

সফলতার নীতি

Image
     বিজন একজন সাধারণ ছেলে ছিল। কয়েকবছর আগে সে একজন বড় বিজনেসম্যানে পরিণত হয়েছে। এই গ্রামে তার দুটো বাড়ি। শহরে দুটো ফ্ল্যাট। রয়েছে তিনখানা ফোর হুইলার। ব্যাঙ্কে বিশাল অঙ্কের অর্থ।      নবগ্রামে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। লোকে তাকে অত্যন্ত সমীহ করে চলে। গ্রামে বিচার-সালিশি বসলে গ্রামের মানুষজন তাকে ডাকে।       বিজন শিক্ষিতও। এম এ পাস। ব্যবসা বলতে ও চানাচুর তৈরি করে। ওর ‘স্বাদ’ নামক ব্রান্ডের চানাচুর এখন বলতে গেলে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে।       আজকে সকালবেলায় টিভি চ্যানে ল থেকে লোক এসেছিল। ওর একটা ইন্টারভিউ নেবার জন্যে। কী করে ও এত বড় হল সেটা জানার জন্য।      সাংবাদিকদের আগমনে ২৪ বছরের ছেলে বিজন একটু মুচকি হাসল মনে-মনে।      প্রথমে কুশল বিনিময় হল তাঁদের সাথে। তারপর বিজন ও ওর মা ওদের মিষ্টান্ন ও ঠাণ্ডা পানীয় সহযোগে সুন্দর আপ্যায়ন করলেন ওঁদের।      এবার বিজনের বেডরুমে শুরু হল ইন্টারভিউ পর্ব।       সাংবাদিক মেয়েটি ওর মুখের সামনে মাইক্রোফোন ধরে প্রথমেই বলল, ‘বিজনবাবু ‘...

বার্ধক্য

Image
     রাস্তার বামপাশ ধরে এক বৃদ্ধ মাটিতে লাঠি ঠুকে ঠুকে যাচ্ছেন। বিধান আর ওর তিন বন্ধু রাস্তার সেইপাশেই দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে। প্রত্যেকের হাতে একটা করে মাটির খুলি আর একটা করে মোটা বিস্কুট। ভাঁড়ে করে চা খাওয়ার তৃপ্তি আলাদা।      ঘন্টা দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে। এমন সময় বৃদ্ধ এসে ওকে হালকা ধাক্কা মারলেন। হাত থেকে কিছুটা চা ওর পড়ে গেল। বৃদ্ধ চোখে কম দেখেন। বয়স হয়েছে।      ঘন্টা রেগে কাঁই, ‘ব্যাটা বুড়ো কোথাকার। দেখে হাঁটতে পারো না।’      বৃদ্ধ মাথা তুলে শুধু বললেন, ‘তুমিও একদিন হবে।’      অতনু পাশেই ছিল। ঘন্টাকে বলল, ‘ভাই এটা ঠিক করলি না। পাঁচ টাকা দিলে একটা চা পাওয়া যায়। তুই ওনাকে এসব বলতে গেলি কেন? তুই কি জানিস না, আমরাও একদিন বয়স্ক হব। আমাদেরও শরীর ভেঙে যাবে, চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে। আমরাও একদিন মারা যাব। তুই বল, আমরা কি সারাজীবন এরকম ইয়াং থাকব? আমাদেরও তো ওইরকম দশা হবে। তাহলে এত অহংকার কেন করিস ভাই? আর তুই কি জানিস না, বয়স্ক মানুষদের আশীর্বাদ যেমন ঈশ্বর গ্র‍্যান্ট করে নেন, একইভাবে তাঁদের অভিশাপও তিনি গ্র‍্যান্ট করে নেন। ওই...